শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
সাটুরিয়ার দরগ্রাম স্কুলের মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীবৃন্দ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নবীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অতিথি পাখিসহ আটক ৫ ঝালকাঠিতে দপ্তরীর বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে শীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ নরসিংদীতে চা ল্যকর মাদ্রাসার ছাত্র হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন করলেন ১৬৪ ধারা জবান বন্দী দিলেন আদালত  গোলনা কালীর ডাংঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের টাকা লুট তারাজ বেড়ায় অসংক্রামক রোগ ও প্রবীণের স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সোনাগাজীতে চায়ের সাথে গুমের ঔষধ মিশিয়ে ধর্ষন,ধর্ষকের সহযোগী মহিলাসহ আটক- ২ জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ইসলামপুর এএসপি সার্কেলের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ,মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা আশুলিয়া থানার এস আই রিকশা চালক সেজে অভিযানকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির মাদক বিরোধী অভিযানে ১০৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক-২ মানিকগঞ্জে ইয়াবা সুন্দরী সাইদা মনিসহ দুই সহযোগী গ্রেপ্তার রাজাপুরে চিকিৎসকের অভাবে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী ঝালকাঠিতে নদী ভাঙ্গনের কবলে দোকনঘর নদীগর্ভে ফেরি গ্যাংওয়ে অচল নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহা সড়ক দখল এখন ময়লার আর্বজনায়-চরম র্দুভোগ পথচারী মানুষদের ডিমলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক কর্মশালা ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএনসিসির অভিযান জলঢাকায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলে কাজিরহাট পন্থাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন সোনারগাঁয়ে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, দাওরা হাদিসকে মাস্টার্সের মর্যাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: সাপাহারে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
অক্ষর যে স্কুলের মাসিক বেতন প্লাস্টিক বর্জ্য

অক্ষর যে স্কুলের মাসিক বেতন প্লাস্টিক বর্জ্য

ফাইল ছবি

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীমঃ পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্লাস্টিকসহ পলিথিন জাতীয়দ্রব্যের আবর্জনায় পৃথিবীর পরিবেশ হচ্ছে নোংরা, অসুন্দর ও ভারসাম্যহীন। আমাদেরকে প্রতিনিয়তই নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই প্লাস্টিক জাতীয়দ্রব্য ও পলিথিন উৎপান করেছি আমরা। আবার ব্যবহারও আমরাই করি। কিছু সচেতনতা ও উদ্যোগের অভাবে বিশ্বের পরিবেশ আজ বিপর্যয়ের মুখে পতিত হচ্ছে। পরিবেশবাদীরাও হচ্ছে সোচ্চার। গ্রহণ করা হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোগ। তার পরও পরিবেশ দূষণ থেমে নেই। সবত্রই চলছে চক্রাকারে বা সারক্লিক ওয়ার্ডারে। কিন্তুু এই দূষণ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? পৃথিবী জুড়ে চলছে এমনই আলোচনা। তেমনি ভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও “অক্ষর” নামক স্কুলটি শুরু করেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অর্থ বা টাকা নয় প্লাস্টিকের নানা রকমের বর্জ্য দিলেই পড়াশুনা করা যায় এই স্কুলটিতে।অফিস আদলত, পার্কে,বাসা-বাড়ি কিংবা কোন অনুষ্ঠানে পরিত্যাক্ত পানির বোতল, পথে-ঘাটে যে কোনো জায়গা থেকে কুড়িয়ে আনা পুরনো প্লাস্টিক পণ্য কিংবা পলিথিন বা এই জাতীয় যে কোন সামগ্রী হোক না কেনো, তাতেই চলবে। স্কুলের মাসিক বেতন কিংবা পরীক্ষার ফি সবই পরিশোধিত বলে গণ্য হবে। এমনই ব্যতিক্রমী স্কুলটি রয়েছে ভারতে। স্কুলটির নাম ‘অক্ষর’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,মূলত পরিবেশের ক্ষতি মোকাবিলায় এমন উদ্যোগ। এতে করে অর্থাভাবে যেমন কারো লেখাপড়া বন্ধ হবে না তেমনি পরিবেশও থাকবে পরিচ্ছন্ন। ভারতের আসামের গুয়াহাটির পামোহিতে গাছপালা সুন্দর নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা ‘অক্ষর’ স্কুলটি ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে। তবে পরিবেশ বান্ধব এই কর্মসূচী প্রায় বছর ধরে সেখানে টাকার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বর্জ্য নেয়া শুরু করেছে স্কুলের বেতন হিসেবে। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা পারমিতা শর্মা এবং মজিন মুখতার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,আমাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটা স্কুল তৈরি করা যেখানে গড়পড়তা শিক্ষাই নয়, পড়ুয়াদের নানা বিষয়ে উৎসাহী করে তোলা যাবে। তার প্রথম পদক্ষেপটাই হলো প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ ব্যাগ করে প্লাস্টিক জমা করে। শুধু তাই নয়। মানুষ যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য না পোড়ায় সে জন্যও সবাইকে অনুরোধ জানানো হয় এই স্কুল পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে। মজিন ও পারমিতা জানান, পামোহি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে। তাদের কেউ পাথর কাটে, কেউ নির্মাণ শ্রমিক কিংবা চা শ্রমিক। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোটা হলো এসব মানুষের কাছে বিলাসিতা। ফলে গ্রামে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলের পরিবর্তে পাথর খাদে পাঠান যাতে তারা প্রতিদিন কয়েক রুপি আয় করতে পারে। অক্ষর ফোরাম’ এমন অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছেন। আর তাই পরিবারগুলিকে কেবলমাত্র প্লাস্টিকের অপচয় হিসাবে ফি দিতে উৎসাহিত করেন। অক্ষর তাদের পরিবারের উপর কোন প্রকার আর্থ ছাড়াই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহ, উদ্দীপনা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন যাপনে অভিজ্ঞতা এবং তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে ড. বর্থাকুর সংবাদ মাধ্যকে বলেন, সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের দ্বারা শুরু করা থেকে সম্পন্ন করা হয়।তারপর তাদের বিভিন্ন ধাপে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, স্কুলে এটিকে পৃথকীকরণ এবং সেটিকে পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রাথমিকভাবে উপযোগী করে রাখা তাদের শেখানো হয়। এখন স্কুলটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতনের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক ছাড়া আর কিছুই নেয়া হয় না। দেশে দেশে এমনকি বাংলাদেশও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে একদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন নির্মল হবে।তেমনি অর্থের অভাবে শহরের হত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রমও বন্ধ হবে না। গড়ে উঠুক পৃথিবীর নানা প্রান্তে এমনই কল্যাণময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..

এ জাতীয় আরো খবর পড়ুন

All rights reserved © 2019 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY sdsubrata.info
Translate »