শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
সাটুরিয়ার দরগ্রাম স্কুলের মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীবৃন্দ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নবীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অতিথি পাখিসহ আটক ৫ ঝালকাঠিতে দপ্তরীর বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে শীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ নরসিংদীতে চা ল্যকর মাদ্রাসার ছাত্র হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন করলেন ১৬৪ ধারা জবান বন্দী দিলেন আদালত  গোলনা কালীর ডাংঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের টাকা লুট তারাজ বেড়ায় অসংক্রামক রোগ ও প্রবীণের স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সোনাগাজীতে চায়ের সাথে গুমের ঔষধ মিশিয়ে ধর্ষন,ধর্ষকের সহযোগী মহিলাসহ আটক- ২ জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ইসলামপুর এএসপি সার্কেলের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ,মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা আশুলিয়া থানার এস আই রিকশা চালক সেজে অভিযানকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির মাদক বিরোধী অভিযানে ১০৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক-২ মানিকগঞ্জে ইয়াবা সুন্দরী সাইদা মনিসহ দুই সহযোগী গ্রেপ্তার রাজাপুরে চিকিৎসকের অভাবে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী ঝালকাঠিতে নদী ভাঙ্গনের কবলে দোকনঘর নদীগর্ভে ফেরি গ্যাংওয়ে অচল নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহা সড়ক দখল এখন ময়লার আর্বজনায়-চরম র্দুভোগ পথচারী মানুষদের ডিমলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক কর্মশালা ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএনসিসির অভিযান জলঢাকায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলে কাজিরহাট পন্থাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন সোনারগাঁয়ে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, দাওরা হাদিসকে মাস্টার্সের মর্যাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: সাপাহারে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কুমিল্লায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে নাজেহাল নির্বাহী

কুমিল্লায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে নাজেহাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

ফাইল ছবি

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ মধ্যরাতে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার (প্লাবন ইমদাদ)। এ নিয়ে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কুমেকের দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা আর অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
এরপর থেকে শুরু হয় তোলপাড়। চলছে আলোচনা -সমালোচনা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ৫০০ শয্যার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যদি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পান সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে? জানা যায়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার পরিচয় না দিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবার পরিবর্তে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে তিনি দুটি স্ট্যাটাস আপডেট করেন। যেখানে বিড়ম্বনা-অব্যবস্থাপনার নানা তথ্য তুলে ধরেন। এরপর থেকে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে ‘প্লাবন ইমদাদ’ নামে তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘রাত ৩:৩০। আমার স্ত্রীর হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা। ও চিৎকার করছিল। খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের অনেকগুলো নম্বর নিয়ে কল করতে থাকলাম। কেউ কল ধরল না। বড় বড় হাসপাতালের নম্বরে কল দিলাম। কেউ ধরল না। একজন দয়া করে অ্যাম্বুলেন্সের কল ধরে জানালেন তার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায়। পাওয়া গেল না। আমার মোটামুটি সব ড্রাইভারকে কল দিলাম। ধরল না। অসহায় অবস্থায় বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা দিলাম ফাঁকা রাস্তায়। কিছুদূর গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম। উনি যেতে রাজি হলেন। গেলাম কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ইমার্জেন্সি তখন ঘুমচ্ছে। অনেক কষ্ট করে ডিউটি ডাক্তার সাহেবের ঘুম ভাঙানো হলো। উনি কাগজে লিখে দিয়ে ৪ তলায় ৪১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বললেন। গেলাম। ওখানে ১৫ মিনিট কাউকে পেলাম না। অবশেষে এক সিস্টার বা আয়া এমন কেউ এলেন। জানলাম ডাক্তার সাহেব ঘুমচ্ছেন। পাক্কা আধা ঘণ্টা ধরে দরজা নক করার পর উনি এলেন। দেখলেন। তারপর ব্যবস্থাপত্র লিখতে গিয়ে দুটো কলমই কালিশূন্য পেলেন। আবার গেলেন তার কক্ষে। গিয়ে ফিরলেন আরো ১০-১২ মিনিট পর।
এদিকে বেশ কয়েকজন রোগী জমে গেছে। অবশেষে আমার স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখলেন- এলজিন ইঞ্জেকশন, নরমাল স্যালাইন আর খাবার স্যালাইন। মজার বিষয় হলো ডাক্তার সাহেব সঙ্গে অতিরিক্ত দুটো স্লিপ ধরিয়ে দিলেন। স্লিপ-১ : ৭টি টেস্টের নাম স্লিপ-২ : বাদুরতলার শেফা ও আজাদ ক্লিনিকের নাম। মুখে বলে দিলেন এই টেস্টগুলো যেন ওখান থেকেই করাই। অনেকটা আদেশের মতো। আমি ভেজা বিড়ালের মতো বললাম, জি আচ্ছা। এর মাঝে কথা হলো দেবিদ্বার থেকে আসা এক ডেঙ্গু রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তার মহিলা রোগীর প্লাটিলেট কমেই চলেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু মজার বিষয় হলো রোগীর ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার নেই। ডাক্তার আসবেন সকালে অথবা আরো পরে। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলাম। ইঞ্জেকশনটা একটা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পুশ করালাম…। তারপর ৫টি উপলব্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে একইদিন বিকেলে আরো একটি স্ট্যাটাস দেন প্লাবন ইমদাদ। লিখেন ‘বিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় একজন এফসিপিএস ডাক্তারের মাধ্যমে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র করে নিয়েছেন। রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা লেখেন সেখানে। মসন্ধ্যার মধ্যে দুটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। তবে শুক্রবার রাতে দুটি স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে প্রত্যাহার করে নেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, এটা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, আমি আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যে ভোগান্তির শিকার হয়েছি আমার উপলব্দি থেকে কেবলমাত্র তা তুলে ধরেছি।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন ইমদাদের ফেসবুক পোস্টটি আমার নজরে এসেছে। সাথে সাথেই তা আমি কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারীকে ফরোয়ার্ড করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাকে জানিয়েছেন। শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ‘ডেঙ্গু রোগীরা ডাক্তারের দেখা পাচ্ছে না’- এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..

এ জাতীয় আরো খবর পড়ুন

All rights reserved © 2019 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY sdsubrata.info
Translate »