সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
বেড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর লুটপাট,আহত দুই রূপসায় ডেঙ্গুতে আক্তান্ত হয়ে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু সাঁথিয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম করে টাকা ছিনতাই জামালপুরে শীর্ষ জঙ্গি জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানের বন্ধ মাদ্রাসা চালু করতে তৎপরতা শুরু চট্টগ্রামে ধর্ষণের অভিযোগে ভন্ড পীর গ্রেপ্তার কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌর মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাপাহারে ইয়াবাসহ যুবক আটক ঝালকাঠিতে পিতা হত্যার দায়ে পুত্রের মৃত্যুদন্ডাদেশ জামালপুরে ডেঙ্গু জ্বরে ২৪ ঘন্টায় ২ রোগির মৃত্যু আগামী দুই বছরের মধ্যেই অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র খুলনায় আধুনিক কৃষি বিপ্লব! গুটি কলম পদ্ধতিতে পেঁপে চাষে নতুন দিগন্ত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই ডিমলায় নোংরা ও দুর্গন্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঝালকাঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গৃহপরিচালিকাকে ধর্ষন অভিযোগে মামলা ঝালকাঠি কাঁঠালিয়ায় পালিত সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু  কুমিল্লায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে নাজেহাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নবীগঞ্জে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি রাজাপুরে দুঃস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ হাটহাজারী ফটিকা শাহজালাল পাড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ইভটিজিং ও মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত নওগাঁর সাপাহারে পুকুরের পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিলুপ্ত প্রায় গরিবের বাংলা ‘এসি’ মাটির ঘর

বিলুপ্ত প্রায় গরিবের বাংলা ‘এসি’ মাটির ঘর

ফাইল ছবি

আব্দুর রহিম রানাঃ মাটির দেয়াল, ওপরে টিন বা খড়ের চাল, সামনে বড় উঠোন, এই হলো ‘গরিবের এসি’ ঘর। মাটির দেয়ালে গড়া সাতচালা বা আটচালা জোড়া বাংলা ঘর এখন আর দেখা যায় না। দেখা মেলে না গোলপাতায় বা খড়ে ছাওয়া মাটির ঘরও। সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাড়ির সামনে সেই বৈঠকখানা বা দহলুজঘর তো বিলুপ্তই হয়ে গেছে। শান্তির নীড় সেসব মাটির ঘরের স্থান দখল করেছে ইট-পাথরের দালান। চিরচেনা গ্রামগুলোকেও তাই এখন অচেনা লাগে। তবে, এখনও চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় চোখে পড়ে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘরটি। হয়তো জাতীয় কবির স্মৃতি বহণকারী হিসেবেই এখনও টিকিয়ে রাখা হয়েছে ঘরটিকে। এছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঢুঁকলে দু’একটি মাটির ঘর চোখে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি তীব্র গরম ও কনকনে শীতে আদর্শ বসবাস-উপযোগী এসব ঘর তৈরি হতো মাটিতে। এ প্রসঙ্গে প্রবীণেরা জানান, এঁটেল মাটি কাদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালের ওপর কাঠ বা বাঁশের চাল তৈরি করে খড়-কুটা, গোলপাতা, টালি অথবা ঢেউটিন দিয়ে ছাওয়া হতো। মাটি কুপিয়ে ও পানি দিয়ে কাদায় পরিণত করার পদ্ধতিকে জাব বলা হয়। জাব কেটে তা সুচারুভাবে গেঁথে ভাজে ভাজে তৈরি করতে হয় দেয়াল। যিনি মাটির চাপ গেঁথে দেয়াল ও বাঁশ দিয়ে চাল তৈরি করেন তাকে ঘরামি বলা হয়। ঘরের বারান্দা ও চালের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ঘরকে বিভিন্ন নামকরণ করা হয়। চারপাশে বারান্দা থাকা ঘরকে আটচালা এবং তিনপাশে বারান্দা থাকা ঘরকে সাতচালা ঘর বলা হয়। গৃহিণীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা একে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। শৈল্পিক আল্পনায় ফুটে উঠতো নিপুণ কারুকার্য। বৈঠকখানা বা দহলুজঘরে এক সময় বসতো গ্রামের মানুষের আড্ডা, বিনোদন আর গল্পের আসর। সাধারণ মানুষ তাদের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, মান-অভিমান, আনন্দ-বেদনা প্রকাশ করতেন মোড়ল বা মাতবরের এ দহলুজঘরে বসে। হুক্কায় টান দিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিতেন। ভূমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির ঘর শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়। অথচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে ইট-সিমেন্টের ঘর নির্মাণে উৎসাহী হচ্ছে মানুষ। আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের আবর্তে তাই দালান-কোঠা আর অট্টালিকার কাছে হার মানছে মাটির ঘর। যশোর সহ দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামেই অনেক পরিবার মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। আশির দশকেও এসব গ্রামে কাঁচা ঘরবাড়ি দেখা যেত। গরিবের এসির সংখ্যাধিক্যে ইট-পাথরের তৈরি পাকা দালানের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। সেই দিন বদলে গেছে। কাঁচাঘর ফেলে পাঁকাঘর নির্মাণে ঝুঁকছেন এ জেলার মানুষ। ফলে, হাতেগোনা দু’একটি মাটির ঘর দেখা যায়। অধিকাংশ বাড়ি এখন ইট পাথরের তৈরি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খাকুন্দি গ্রামের মাটিরঘর তৈরির কারিগর মওলাবকস্ জানান, বাপ-দাদাও এই পেশায় জড়িত ছিলেন। বাবা মৃত আদম আলী ছিলেন তার দাদার সহযোগী। কয়েক বছর সহযোগী হিসেবে থাকার পর তার বাবাও এক সময় হয়ে যান মাটির ঘরের পাক্কা কারিগর। এক সময় মাটির ঘরের প্রচুর চাহিদা ছিল। বছরে ১০-১২ ঘরের কাজ পেতেন তিনি। তখন তাদের সংসার চলতো ভালোভাবেই। বাবার সঙ্গে কাজ করায় তিনি কারিগর হয়ে যান। কিন্তু,এখন আর আগের মতো মাটির ঘরের চাহিদা না থাকায় তিনিও দূরে সরে গেছেন এই পেশা থেকে। কত বছর হচ্ছে আপনি এই পেশা ছেড়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১০/১২ বছর ধরে এই কাজ করি না। এই কাজ চালু রাখলে তো পেটে ভাত মিলবে না। তাই এই পেশা ছেড়ে এখন মাঠে চাষাবাদের কাজ করি। আপনি কি এখনো মাটির ঘরে বসবাস করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাটির ঘর আছে। তবে ওটাতে থাকা হয় না। নতুন টিনের ঘর করেছি, ওটাতে থাকা হয় এখন। তবে মাটির ঘরে থাকার আরাম আর কোনো ঘরেই পাওয়া যাবে না। আধুনিকতার খাতিরে বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাপনের চিত্র। বদলে যাচ্ছে থাকার জায়গা, পোশাক-আশাক, যোগাযোগ ব্যবস্থা। বদলে যাচ্ছে মওলাবকসের মতো শতশত মানুষের কর্মব্যস্ততা। ঠিক তেমনি আস্তে আস্তে নাই হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এসব মাটির ঘর।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2019 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY sdsubrata.info
Translate »